1. admin@jamunarbarta.com : যমুনার বার্তা : যমুনার বার্তা
  2. shohel.jugantor@gmail.com : যমুনার বার্তা : যমুনার বার্তা
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

সব শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা নিতে হবে

  • প্রকাশ শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৯ জন পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুনভাবে যাতে আবার সংক্রমিত না হয় তার ব্যবস্থা এখন থেকেই আমাদের নিতে হবে। কাজেই কেউ যেন টিকার বাইরে না থাকে, সবাইকে কিন্তু এই ভ্যাকসিন নিতে হবে। কেউই টিকা দেয়ার কাভারেজের বাইরে না থাকে। আর অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে শিক্ষার্থীদের ‘যা কিছু প্রয়োজন’ তার ব্যবস্থা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অনলাইন শিক্ষাটা, এটা চালু রাখতেই হবে। কারণ করোনা কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। আমরা সব সময় যেটা লক্ষ্য করছি, শীতের পরপর এর প্রাদুর্ভাবটা আবার বেড়ে যায়। তাই সবাইকে কোভিড-১৯ টিকা নিতে হবে। তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে টিকাদান অভিযান সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

শিক্ষার্থীদের কেবল ‘বকাঝকা’ না দিয়ে মানসিক অবস্থা বুঝে তাদের সামলানোর পাশাপাশি ‘এক গাদা’ পাঠ্যপুস্তকে আটকে না থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে দেশের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অনেকেই সচেতন নন। এ বিষয়ে দুই লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত শিক্ষার্থীদের একটা পরীক্ষা নেয়া দরকার মানসিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে, যে কার ভেতরে কী ধরনের সমস্যাটা আছে। শুধু ধমক দেয়া না বা তাদের বকাঝকা না, তাদের অবস্থাটা বুঝে তাদের সঙ্গে সেইভাবেই আচরণ করতে হবে। এটা বাবা, মা, শিক্ষক বা বন্ধু-বান্ধব সবাইকেই বিষয়টায় সচেতন হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের টিকাদান কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শিক্ষকদের প্রথমে দিয়েছি, এখন শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি এবং ১২ বছর বয়স পর্যন্ত যারা তাদের সবাইকে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেকের অনীহা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতকালই (বুধবার) তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলে ব্যবস্থা নিয়েছেন সারাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে যেন এই টিকাদান কর্মসূচী অব্যাহত থাকে। যাতে একদম তৃণমূল পর্যায়ের মানুষও যেন দ্রুত টিকা নিতে পারে। কারণ নতুনভাবে যাতে আবার সংক্রমিত না হয় সে ব্যবস্থা আমাদের এখন থেকেই নিতে হবে। কাজেই কেউ যেন টিকার বাইরে না থাকে, সবাইকে এই ভ্যাকসিন নিতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, আজকে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি আহ্বান জানাব, আমরা এই টিকাদান কার্যক্রমটা একদন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমেই দেয়া হবে বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে দেয়া হবে। কিন্তু যারা টিকা নেন নাই এখনই তাদের টিকাটা নিতে হবে। পরিবারের শুধু অভিভাবককে নয়, শিক্ষার্থীরাও যাতে টিকা নেয় সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী একই অনুষ্ঠানে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এবার করোনার কারণে ১ জানুয়ারি সারাদেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসব না হলেও সেদিন থেকেই দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বই বিতরণ শুরু হবে এবং ভিড় এড়াতে একেক দিন একেক শ্রেণীর বই প্রদান করা হবে। এবারে ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি বই বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে ২০২১ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন। এর আগে মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ ১১টি বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির হাতে ফলাফল তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতার ওপরও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এক লাখ শিক্ষক এবং কর্মকর্তাকে পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং দুই লাখ শিক্ষককে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিনি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে অনেক শিক্ষার্থীরও এই সমস্যা থাকায় লেখাপড়ায় সমস্যায় পড়তে হয়, যা অনেক সময় সকলের অগোচরেই থেকে যায়। তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকের এক গাদা পথে যে শিক্ষা, সেই শিক্ষা না, শিক্ষাটা পরিবেশ সম্পর্কে, শিক্ষাটা মানসিকতা সম্পর্কে, সকলের সঙ্গে চলার একটা শিক্ষা সবাইকে দিতে হবে। সেইভাবেই সবাইকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনের জন্য সোনার মানুষ হবে আজকের শিক্ষার্থীরা। এজন্য তাদের সেভাবে গড়ে তুলতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের নজর দেয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের যোগ্য নাগরিক আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আজকের দিনটা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলাফল ঘোষণার পাশাপাশি নতুন বছরের নতুন বই দেয়া হচ্ছে। বই হাতে পাওয়ার আনন্দ আলাদা, নতুন বই মলাট লাগানো ও তাতে নাম লেখা, এটা অন্য রকম অনুভূতি।

তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাতে পিছিয়ে না থাকে, তাদের উপযোগী করেও বই প্রস্তুত করে দিচ্ছি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের নিজেদের ভাষায় বই তৈরি করে দিচ্ছি। এ পর্যন্ত আমরা তাদের ৫টি ভাষা পেয়েছি। সে ভাষায় বই করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় কৃষকের ছেলে বড় কর্মকর্তা হয়ে যাবার পর বাবার পরিচয় দিতে লজ্জা পায়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং খুব লজ্জার ব্যাপার। বরং সেই বাবাকে আরও বেশি সম্মান দেয়া উচিত যে বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সন্তানকে শিক্ষা দিয়ে বড় করেছে। তাকেই সব থেকে সম্মান দেয়া উচিত, বরং তার সঙ্গে মাঠে নেমে কাজ করা উচিত।

কৃষকের সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি ফসল ফলানোর চেষ্টা করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাহলে সেটা প্রকৃত শিক্ষা হবে। নিজে দুই পাতা পড়ে একটা ফুল প্যান্ট পড়ার পর আর মাঠে নামতে পারব না, এই মানসিক দৈন্যতাটা বাংলাদেশের মানুষের মাঝে থাকুক, সেটা আমরা চাই না। সেটা আমরা দেখতে চাই না। এটা একটা মানসিক দৈন্য, এটা মানসিক দারিদ্র্য। এটা যেন না থাকে। সমস্ত কাজকেই সম্মান দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো বার্তা দেখুন
©২০১৫ ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews