1. admin@jamunarbarta.com : যমুনার বার্তা : যমুনার বার্তা
  2. shohel.jugantor@gmail.com : যমুনার বার্তা : যমুনার বার্তা
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

রাজধানীর পরিবহণ পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে ১৬ নতুন ওয়ার্ড

  • প্রকাশ বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩০ জন পঠিত

কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনায় (এসটিপি) যুক্ত হচ্ছে রাজধানীর নতুন ১৬টি ওয়ার্ড। পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে পুরো পরিকল্পনাটি। ফলে বর্তমান জনসংখ্যার ঘনত্বের সঙ্গে পরিবহণের চাহিদা, চলমান উদ্যোগগুলোর অবস্থা এবং আগামীর ঢাকায় যানজটমুক্তর জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করা হবে।

এজন্য ‘মিডটার্ম রিভিউ অ্যান্ড আপডেটিং অব স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান ফর ঢাকা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৯ কোটি ৭৯ লাখ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ থেকে ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা। ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পটির আওতায় বিদ্যমান সংশোধিত কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনা এবং নগর পরিবহণ কর্মপন্থা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে। এছাড়া ভিত্তিমূল উপাত্ত হালনাগাদ করে ট্রাফিক চাহিদা পূর্বাভাস পুনর্নির্ধারণও হবে। সে সঙ্গে ভ্রমণ চাহিদা জানতে নৌপরিবহণ, রেল এবং মালামাল পরিবহণকে অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ঢাকা মহানগরীর সম্ভাব্য গণপরিবহণ করিডর পুনঃপর্যালোচনার কথা আছে।ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার রোববার বলেন, নতুন ১৬টি ওয়ার্ড যুক্ত হলে সেগুলোয় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

পর্যায়ক্রমে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি পুরো পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করে দেখা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এমন উদ্যোগ ভালো। যে কোনো পরিকল্পনাই সময় সময় হালনাগাদ হওয়া প্রয়োজন। তবে এত টাকা খরচ করে কী করা হবে, সেগুলো আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার।সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নতুনভাবে ৮টি করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিধি ৮২ দশমিক ৩৬ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ১১৪ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার হয়। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিধি ৪৫ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ৬৪ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার হয়েছে। মহানগরীর পরিধি বৃদ্ধিতে নগরীতে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত জনগণের পরিবহণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য বিদ্যমান সংশোধিত কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনা (আরএসটিপি) পুনঃপর্যালোচনা সংশোধন হালনাগাদ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ায় এটি সমন্বয় করা হচ্ছে।প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। যার উৎপাদনশীলতা দেশের মোট জিডিপির শতকরা ৩৫ ভাগ। ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিল ৬৬ লাখ।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য কারণে ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী এ শহরের জনসংখ্যা হয়েছে দুই কোটিরও বেশি। বর্তমানে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বর্তমান জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৯ হাজার ৮০৩ জন, যা পৃথিবীর অন্য শহরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। লোকসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে এ মহানগরীর পরিবহণের সংখ্যাও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০১ সালে ঢাকা শহরে নিবন্ধিত পরিবহণ ছিল ২০ হাজার ৬০০, যা ২০১৮ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৪-তে উন্নীত হয়েছে। সময়ের প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগরীর যানজট ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। ফলে কর্মঘণ্টার অপচয়, জ্বালানিসহ যানবাহনের অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও অন্যান্য কারণে বছরে প্রায় ৩২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

২০০৫ সালে ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল- ঢাকা মহানগরী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এছাড়া রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, নগরীর প্রবেশ ও নির্গমন মহাসড়কের যানজট নিরসন ও আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য পরবর্তী সময়ে এ কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনা (এসটিপি) হালনাগাদ ও সংশোধন করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে ২০৩৫ সালে বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনা (আরএসটিপি) করা হয়। যেটি ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদন পায়।

আরএসটিপির তথ্য অনুযায়ী ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ট্রিপ তৈরি হয়, যা ২০২৫ সালে ৪ কোটি ২০ লাখ এবং ২০৩৫ সালে ৫ কোটি ২০ লাখ ট্রিপে উন্নীত হবে। এ বিশাল পরিবহণ চাহিদা নিরসনে আরএসটিপিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আরএসটিপির আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (মেট্রো রেল), দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে তিনটি রিং রোড, আটটি রেডিয়াল সড়ক, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২১টি ট্রান্সপোর্টেশন হাব নির্মাণ করা হবে।

পাশাপাশি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থা উন্নয়ন ও বাস পরিবহণব্যবস্থা পুনর্গঠন করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আরএসটিপিতে ঢাকা মহানগরীকে কেন্দ্র করে চতুর্দিকের আঞ্চলিক উপশহর এলাকাগুলোকে সংযোগকারী অত্যধিক যাত্রী চাহিদাসম্পন্ন ছয়টি গণপরিবহণ করিডর চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো-টঙ্গী-গাজীপুর করিডর, পূর্বাচল করিডর, নারায়ণগঞ্জ করিডর, ঝিলমিল করিডর, সাভার করিডর এবং আশুলিয়া করিডর। বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় প্রতি পাঁচ বছর পর আরএসটিপির মধ্যবর্তী পর্যালোচনা ও পুনর্মূল্যায়নের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল রশীদ বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনা বর্তমান সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এটি হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব প্রকল্পে কাজ চলছে, সেগুলো বাস্তবায়ন শেষে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। তিনি বলেন, মাস্টার প্ল্যান সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করানো না হলে বাস্তবতার সঙ্গে মেলানো যায় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো বার্তা দেখুন
©২০১৫ ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized By BreakingNews